• বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন

বদলগাছীতে পেয়ারা গাছে গৃহবধুর ফাঁস দিয়ে রহস্য জনক আত্নহত্যা

মোঃ ফেরদৌস হোসেন জেলা ব্যুরো প্রধান, নওগাঁ। 
Update Time : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মোঃ ফেরদৌস হোসেন জেলা ব্যুরো প্রধান, নওগাঁ।

 

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় বাবার বাড়ীতে পেয়ারা গাছে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে এক গৃহবধুর রহস্য জনক আত্নহত্যা হয়েছে। জানাযায় যে, ০৩-০২-২০২৬ ইংতারিখ সোমবার গভীর রাতে মিঠাপুর ইউনিয়নের খামার পুকুরপাড় এলাকার একটি বাড়ির উঠানের পেয়ারার গাছ থেকে বদলগাছী থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।নিহত গৃহবধূর নাম নুপুর (৩২)। তিনি বাবু হোসেনের মেয়ে। নুপুরের বিয়ে হয়েছিল প্রায় ছয়-সাত মাস আগে একই উপজেলার মিঠাপুর বউলা পাড়া এলাকার মোঃ শাহরিয়ার হোসেন বর্ষার সঙ্গে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি/২৬ ইং তারিখ দুপুরে নিহত নুপুরের শ্বশুর আতিকুল ইসলাম ’দুলাল’ (৬০) ও শাশুড়ি দিনা বেগম (৫০) তার বাবার বাড়িতে এসে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নুপুরকে মারধর করে চলে যান। পরে রাতে নুপুর তার মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে নুপুরের মা ঘুম থেকে উঠে মেয়েকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির উঠানে থাকা একটি পেয়ারা গাছে গলায় ওড়না পেঁচানো ও মাটিতে হাঁটু ভাঁজসহ মাটিতে পা লাগানো অবস্থায় নুপুরকে ঝুলতে দেখেন। পরে নুপুরের মায়ের আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এসে নিশ্চিত হন যে, সে আগেই মারা গেছেন।খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ লুৎফর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।নিহতের পরিবার জানায়, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর পরিবার নুপুরকে ছোটখাট বিষয়াদি নিয়ে প্রায়শতঃ নির্যাতন করত। সে কারণে বিয়ের পর থেকেই তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। নুপুরের এটা দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।  তার প্রথম স্বামীর পক্ষের ৯ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।এলাকাবাসির ভাষ্যে আরও জানাযায় যে, নিহতের পিতা- বাবুশাহ (৫৮) প্রায় ২০ বছর আগে নাটোর জেলার গুরুদাস উপজেলার বৃকাশো গ্রামে দ্বিতীয় করে বসবাস করে। সে মাঝে মধ্যে বছরে দু’ একবার মিঠাপুরের বাড়ীতে বেড়াতে আসে।অফিসার ইনচার্জ মোঃ লুৎফর রহমান জানান,এটি হত্যাকাণ্ড নাকি আত্নহত্যাতা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি, তবে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য যে, পুলিশের ময়না তদন্তকারী অফিসার জানান মৃতার স্ত্রী যৌনাঙ্গে রক্তক্ষরণের চিহ্ন ছিল।


এ বিভাগের আরও সংবাদ