ঝালকাঠি প্রতিনিধি ঃ
ঝালকাঠির ধানসিঁড়ি ইউনিয়নে প্রিন্স মিলন মাহমুদ ওরফে মিলন মোল্লা নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা, জমি দখল ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কথা প্রচার করে তিনি নিজেকে তার ‘ঘনিষ্ঠ’ পরিচয়ে উপস্থাপন করতেন এবং এই পরিচয়কে পুঁজি করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলতেন।স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত মিলন মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে অসহায় মানুষকে নিঃস্ব করেছেন এবং জমি দখল ও প্রতারণার মাধ্যমে শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।অভিযুক্তের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার চরবাটারাকান্দা এলাকায় বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে দলটির নাম ভাঙিয়ে তিনি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জমি দখলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমনকি সরকারি জমি দখলের উদ্দেশ্যে “বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ” নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে একাধিক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে দখল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অভিযুক্ত মিলন মোল্লা কৌশল পরিবর্তন করে নিজেকে বিএনপির সমর্থক হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি সাবেক বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান বাপ্পি ওমরা হজে গেলে তার সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় “সাদা” করার চেষ্টা করছেন তিনি।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ব্যক্তিরা সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে থাকে। তারা সাধারণ মানুষকে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ করেছেন—যেন যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলে আশ্রয় দেওয়া না হয়।এছাড়াও স্থানীয় একাধিক সচেতন ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, প্রিন্স মিলন মাহমুদ ঝালকাঠি, বরিশাল, গৌরনদী, ভোলা ও পিরোজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অসহায় ও বেকার যুবকদের বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে অনেকেই তাকে বিশ্বাস করে সর্বস্ব হারান। বর্তমানে প্রতারিত বহু ভুক্তভোগী দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে জীবন চালাচ্ছেন।ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল এই প্রতারককে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।সচেতন নাগরিকদের অভিমত, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর কঠোর নজরদারি এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই এ ধরনের প্রতারকদের অপতৎপরতা বন্ধ করা সম্ভব।