ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬কে সামনে রেখে ঝালকাঠি জেলায় নির্বাচনী আচরণবিধির প্রকাশ্য ও চরম লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও নিষিদ্ধ নেতা, স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজ্জাক সেলিমের বিরুদ্ধে।অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ঝালকাঠি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার এলাকা ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে রঙিন, আকর্ষণীয় ও বড় আকারের বিলবোর্ড ব্যবহার করে তিনি অবাধে ও নির্বিঘ্নে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচন কমিশন প্রণীত আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন এবং নির্বাচনী আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি চরম অবজ্ঞার সামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের বেআইনি ও ব্যয়বহুল প্রচারণা নির্বাচনের সমতা, ন্যায়সংগত পরিবেশ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। আচরণবিধি অমান্য করে একক প্রার্থীর অতিরিক্ত প্রচারণা সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে এবং অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে স্পষ্ট বৈষম্য সৃষ্টি করছে।এদিকে ঝালকাঠি জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের পরিবর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টাকার বিনিময়ে ‘রফাদফা’ করে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার করছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত একজন আওয়ামী লীগ নেতা হয়েও রাজ্জাক সেলিম কীভাবে প্রকাশ্যে জেলা শহরে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন—তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও জনমনে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।ঝালকাঠি জেলার সর্বস্তরের জনগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রকাশ্যভাবে আইন ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের পরও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠবে। তারা অবিলম্বে অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণ, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।সচেতন নাগরিক সমাজের কঠোর প্রত্যাশা—নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অন্যথায় এ ধরনের অনিয়ম ঝালকাঠিতে আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।