ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ফারুকের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির ঝালকাঠি মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক লেলিন মুক্তা কর্তৃক দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।মামলার বাদী লেলিন মুক্তা অভিযোগ করে বলেন, “একজন এজাহারভুক্ত আসামির এভাবে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। মামলার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”স্থানীয় একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, মিজানুর রহমান ফারুক ঝালকাঠি থানা পুলিশের একটি অংশকে ‘ম্যানেজ’ করে গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছেন। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদে বসেই তিনি টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অনিয়মে জড়িত। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃকালীন ভাতা এবং রাস্তাঘাট উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। স্থানীয়দের দাবি, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়।ইতিপূর্বে এসব অভিযোগ নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ইউনিয়নবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এজাহারভুক্ত আসামিকে আইনের বাইরে রাখার প্রবণতা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও গভীর করছে এবং সাধারণ মানুষের রাষ্ট্রের ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন করছে।এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলার বাদী লেলিন মুক্তা ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। যদিও ঝালকাঠি থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন—এজাহারভুক্ত আসামি মিজানুর রহমান ফারুককে গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।স্থানীয়দের জোর দাবি, অবিলম্বে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা, মামলার অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করা। অন্যথায় ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।