মোঃ ফেরদৌস হোসেন
নওগাঁ জেলার বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুলে সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির শূন্য আসনে ঘোষিত ভর্তি পরীক্ষা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির আদেশে স্থগিত করা হয়েছে। জানা যায়, বদলগাছী মাইলস্টোন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু জার গিফারী এবং বদলগাছী লাবণ্যপ্রভা পাইলট ও কমিউনিটি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভসহ হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শূন্য আসনে মেধাভিত্তিক ভর্তি নিশ্চিত করতে গত ১৭-০১-২০২৬ ইং তারিখে মাইকিংয়ের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি দেয় বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ। ২১-০১-২০২৬ ইং তারিখে নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা শুরুর মাত্র দুই-তিন মিনিট আগে ফোনের মাধ্যমে পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়।এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, স্থানীয় দুইটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করার নির্দেশ দেন। সভাপতির নির্দেশ ক্রমে তিনি পরীক্ষা স্থগিত করেন।ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরও বলেন,বিধি ৬.৬ বলা আছে শিক্ষাবর্ষের মধ্যে অপেক্ষামান তালিকা থেকে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা যাবে কিন্তু এখানে ব্যতিক্রম হলো ক্লাশ সেভেন থকে নাইন পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে অপেক্ষামান তালিকা নেই। সে কারণেই পরীক্ষা নিয়ে সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির শূন্য আসন পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। অভিযোগকারী প্রধান শিক্ষক যথাক্রমে জাহাঙ্গীর আলম আবুজার গিফারী অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন।এদিকে ভর্তি পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বলেন, বদলগাছী মাইলস্টোন কোনও স্কুল নয় ওটা একটি কোচিং সেন্টার। তাদের না আছে রেজিষ্ট্রেশন, না আছে পাঠদানের অনুমতি। তারা অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে কোচিং বাণিজ্য করে অন্য স্কুল থেকে পরিক্ষা দেওয়ায়। আবু জার গিফারী একজন কোচিং সেন্টারের মালিক। একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষকের কথা শুনে ইউএনও এধরণের কাজ করতে পারেন না। আর এটা আমরা মানতে পারিনা। তারা পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা চত্বর ত্যাগ না করার ঘোষণা দেন।এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশরাত জাহান ছনির সংগে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আইনগত ভাবে বাঁধা থাকার কারণে ভর্তি পরিক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের শান্ত করেন। তিনি তাদেরকে জানান, বিষয়টি যাচাই করে পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।