• বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন

ঝালকাঠিতে ভাই বোনের জমির নিয়ে দ্বন্দ ঝালকাঠি থানায় ভাই ও ভাতিজির বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলা। 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: মোঃ নাদিম শরীফ
Update Time : শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের গোবিন্দ ধবল গ্রামে ভাই বোনের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। এই ঘটনায় ভাগিনারা তাদের মামার বিরুদ্ধে ঝালকাঠি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে তথ্য অনুসন্ধানে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে মামলার অভিযোগের পক্ষে কিছু আলামত দেখতে পান। তবে বিবাদী পক্ষ (মামা) এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন ।মামলার বাদী নেহার ভানু নিরু বেগম (৫৮) ঝালকাঠি থানায় দায়ের করা অভিযোগে (মামলা নং-২৫৮/২০২৫, তারিখ-৩১/০৭/২০২৫) উল্লেখ করেছেন যে, ১নং বিবাদী মোঃ নান্নু হোসেন (৫৫) এবং ২নং বিবাদী মোসাঃ সুমি বেগম (৩০) এর সাথে তার পৈতৃক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। তিনি মামার নিকট থেকে ক্রয়কৃত ০.১৫ শতাংশ এবং দাদার হেবা সূত্রে প্রাপ্ত ২৩ শতাংশ জমিসহ মোট ৩২ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করেন।পূর্বের অভিযোগ অনুযায়ী, বসতঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে বিবাদী পক্ষ বাধা দেয় এবং গত ১৩/০৯/২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ০৯.০০ ঘটিকার সময় বাদীকে লাথি মেরে পাশের খালে ফেলে দেওয়া হয়।সর্বশেষ অভিযোগ অনুযায়ী, বাদী পক্ষ দাবি করেছেন যে রাত ৯টার দিকে বিবাদী পক্ষ তাদের বাড়িতে এসে হামলা চালায় এবং ঘর ভাঙচুর করে। এ সময় তারা স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়, যার মধ্যে বাদীর মায়ের কান থেকে কানের দুলও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়াও, বাদীর বাবা দোকান থেকে ফেরার পথে তার কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।জমি সংক্রান্ত বিরোধের পাশাপাশি বর্তমানে কলের পানি ব্যবহার নিয়েও নতুন করে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। বাদী পক্ষের দাবি, তারা কল বসানোর সময় বিবাদী পক্ষকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন বিবাদী পক্ষ তাদের সেই কলের পানি ব্যবহার করতে বা পান করতে দিচ্ছেন না।বিবাদী পক্ষ এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ অবাস্তব ও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তারা সাংবাদিকদের কাছে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তাদের মায়ের ফরাজি জায়গা এবং অন্যান্য প্রাপ্য সম্পত্তি বাদী পক্ষকে আগেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরও তারা জোরপূর্বক জায়গা দখল করতে এলে তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়।হামলা, ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার চুরি এবং টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বিবাদী পক্ষ জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা তারা পূর্বে কখনো ঘটাননি এবং বর্তমানেও ঘটেনি। কলের পানি ব্যবহারের অভিযোগটিও তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বিবাদী পক্ষ এই মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তথ্য অনুসন্ধানে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে মামলার অভিযোগে উল্লেখিত কিছু আলামত দেখতে পান, যা মামলার সত্যতা যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে বিষয়টি বর্তমানে স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দ্রুত এই পারিবারিক বিরোধ নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।


এ বিভাগের আরও সংবাদ